বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ০৮:১৬ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :

কুয়াকাটায় জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে আবাসিক হোটেলের জমি দখলের অভিযোগ

মাতৃভূমি সংবাদ 

নিজেস্ব প্রতিবেদক

পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় গভীর রাতে আবাসিক হোটেল কুয়াকাটা গেস্ট হাউসের জমি জোরপূর্বক দখলের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় জামায়াতে ইসলামীর এক নেতার বিরুদ্ধে। এমন অভিযোগ এনে নিজ ভাগিনা কুয়াকাটা পৌরসভার ৩ নং ওয়ার্ড জামায়াতের সহকারী বাইতুলমাল সম্পাদক মো. শাহাবুদ্দিন ফরাজির বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী হোটেল মালিক ও কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট এমএ মোতালেব শরীফ।

এ সময় তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। পরে ৯৯৯ এ কল দিয়ে আইনি সহায়তা চাইলে ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে। এ ঘটনায় মহিপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী।

বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে তার ভাগিনার নেতৃত্বে বেশকিছু লোকদেশীয় অস্ত্র নিয়ে হোটেল সংলগ্ন জমির পেছনের দিক দিয়ে প্রবেশ করে এবং সীমানা প্রাচীর ভেঙে দখলের চেষ্টা চালায়। এ সময় হোটেল কর্তৃপক্ষ বাধা দিলে তাদের ভয়ভীতি দেখানো হয়।

এ বিষয় ভুক্তভোগী হোটেল মালিক এমএ মোতালেব শরীফ কুয়াকাটা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন ডেকে লিখিত অভিযোগ করে বলেন, কুয়াকাটা গেস্ট হাউস সংলগ্ন  ১২৬৪/১২৬২ ডি নং খতিয়ানে আমার বাবা মারা যাওয়ার পরে ৫৬/১৪ বণ্টন মোকদ্দমার মাধ্যমে বোনদের জমি দুই খতিয়ানের দক্ষিণ ভাগে ১২৬৪ খতিয়ানের মাধ্যমে ডিগ্রি প্রাপ্ত হয়ে আদালত ভাই বোনদের জমি বুঝিয়ে দেয় ২০১৮ সালে। পরবর্তীতে আত্মীয় ফজলুর রহমানের নেতৃত্বে সাহেদা, জাহানারা, শাহীনুর ৩৮৫/২৩ নং ডিক্রি রদের মোকাদ্দমার মাধ্যমে জমির ওপর ২০২৪ সালে আদেশ হয়। তা সত্ত্বেও গত ৩ ফেব্রুয়ারি ওই মামলার পক্ষগণের মাধ্যমে জাহানারা, শাহীনুর, সাহেদা আমার কাছে এসে আমার আবাসিক হোটেল গেস্ট হাউজের পেছনে ঢুকে ঘর তৈরি করবে বলে হুমকি দেয়। তারই প্রেক্ষিতে আমি মহিপুর থানায় এক অভিযোগ দায়ের করি। পরে ০৬/০২/২০২৬ ইং তারিখ মধ্যে রাত ৩টার দিকে আমার কুয়াকাটা গেস্ট হাউজের বাউন্ডারি ওয়াল ভেঙে অভিযুক্ত জাহানারা, শাহিনুর, শাহেদার সাথে জামায়াতে ইসলামী নেতা শাহাবুদ্দিন, শামিম ও অন্যান্য ১৫/২০ জন মিলে একটি টিনের বেড়ার মাধ্যমে জমি দখলের উদ্দেশ্যে ঘর তৈরির ব্যবস্থা করে। গভীর রাতে বাউন্ডারি ওয়াল ভেঙে বেআইনিভাবে হোটেল ও বাড়ি দখলের চেষ্টা করে। ওই রাতে আমি ৯৯৯ নম্বরে অভিযোগ জানালে ঘটনাস্থলে থানা পুলিশের একটি টিম আসে এবং আমি সাংবাদিকদেরও ঘটনাটি অবহিত করি।

তিনি আরও বলেন, আমার বাবার মৃত্যুতে বোনদের জমিবাবদ সাহেদা বেগমের সাড়ে ৩৪ শতাংশের ভেতর ২২ শতাংশ জমি খান প্যালেসের রহিম খানের কাছে বিক্রি করেন। বাকি সাড়ে ১২ শতাংশ বাবদ এক লাখ ২৪ হাজার টাকা ২০০২ সালে নিয়ে যায়। অন্যান্য বোনদের জমির সম্পূর্ণ টাকা পরিশোধ করা হয়। কিন্তু জমির দলিল আজ-কাল করে এখন পর্যন্ত দেয়নি। বর্তমানে দলিল না দিয়ে জোড়পূর্বক আমার জমি দখলের চেষ্টা করছে তারা।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত জামায়াত নেতা মো. শাহাবুদ্দিন ফরাজি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি কোনো জমি দখল করতে যাইনি। এখানে আমার মা ও খালারা তাদের ন্যায্য অংশ পাবে। দীর্ঘদিন ধরে আমরা আমাদের জায়গা ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু মামা আমাদের বুঝিয়ে দেননি। তাই নিজেদের জায়গা বুঝে নেওয়ার জন্য আমরা সেখানে গিয়েছি। এখানে আমি বা আমার মা-খালারা কোনো অন্যায় করেনি।

এ বিষয়ে মহিপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহব্বত খান বলেন, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে আমরা তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে ফোর্স পাঠাই। বিষয়টি জমি সংক্রান্ত বিরোধ। এটি আদালতের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হবে। তারপরও সাময়িকভাবে উভয় পক্ষকে শান্ত রাখার চেষ্টা করেছি।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Categories

© All rights reserved © 2023 MatrivumiSongbad
Design & Developed BY N Host BD